নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ | 179 বার পঠিত | প্রিন্ট
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা কাটিয়ে ব্যাংকিং খাতে সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪টি ব্যাংক বোর্ড বাতিল করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এসব ব্যাংক একীভূত করে একটি শক্তিশালী ও সুশাসনভিত্তিক ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলাই সরকারের বর্তমান আর্থিক সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, এই সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছয়টি নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে ‘ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট’ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ এবং ‘ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট’ সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।
নতুন আইনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একটানা ১২ বছর একই ব্যক্তি পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে পারবে না—এটি সর্বোচ্চ ৬ বছরে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বোর্ডে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পারিবারিক প্রভাব কমিয়ে পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যক্তিগত লকার ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর। তিনি বলেন, “লকার ফ্রিজ থাকা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনের পর ব্যক্তিগত লকার ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অবসান হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যক্তিগত লকার বাণিজ্যিক ব্যাংকেই পরিচালিত হয়, সেজন্য জনগণকে সেই পথেই যেতে হবে।”
গভর্নর আরও জানান, ঋণের শ্রেণিকরণ ও পরিশোধ সময়সীমা পুনর্গঠন করে তিন মাসে একবার মূল্যায়নের নতুন বিধান চালু হয়েছে, যা ঋণদানের পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। আগে ছয় ও নয় মাসে মূল্যায়ন হতো, যা অনিয়মকে প্রশ্রয় দিত।
এছাড়া দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ পুনর্বিন্যাসের সুযোগ বন্ধ করতে আইনি কাঠামোর আওতায় ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ’ গঠন করা হয়েছে। এই বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একীভূতকরণ, পরিচালনা পরিবর্তন এবং প্রয়োজন হলে পুনর্মূল্যায়নের কাজ পরিচালনা করবে।
অর্থ পাচার রোধে চারটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, এবং ইতোমধ্যে ১১টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আরও তথ্যের ভিত্তিতে নতুন মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ড. মনসুর আরও জানান, উচ্চ আদালতের রিটের কারণে অনেক ব্যাংকিং অর্থ আটকে আছে, যা বিশ্বের কোথাও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আদালতের স্থগিতাদেশ প্রথার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা মুদ্রানীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে এলে সুদের হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে বলেও জানান গভর্নর।
এই সংস্কার কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যাংকিং খাত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত হয়ে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম হবে।
Posted ১:২৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.