রবিবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

মুদ্রানীতির লক্ষ্য: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ | 244 বার পঠিত | প্রিন্ট

মুদ্রানীতির লক্ষ্য: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা

৩১ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার — বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি (এমপিএস) ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

গভর্নর জানান, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, বিশেষত মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের স্থবিরতা। এসব পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করতে হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে নীতিগত সুদের হার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি হার ১১.৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হার ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসলে এবং বাস্তব নীতিগত সুদের হার ৩ শতাংশে পৌঁছালে রেপো রেট কমানোর কথা চিন্তা করা হবে।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক, বৈদেশিক চাহিদা হ্রাস এবং রফতানি আয়ে কমতির আশঙ্কার কারণে আমরা এখনও রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছি।” তিনি আরও জানান, “মে ২০২৫ থেকে বাংলাদেশে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে রিজার্ভ স্থিতিশীল করতে সহায়ক হয়েছে।”

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বচ্ছতা আনতে প্রতিদিন দুবার রেফারেন্স রেট প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রয়োজনে বাজারে হস্তক্ষেপ করে মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা করেছে।

গভর্নর আরও বলেন, “বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনা, শুল্ক বৃদ্ধি এবং মন্দার সম্ভাবনা থাকায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। ফলে রপ্তানিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দিক থেকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ধীর বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ খেলাপি ঋণও অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকিং খাতে শিগগিরই ঝুঁকিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থা চালু হবে, যার বাস্তবায়ন জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হবে। এছাড়া, অডিটেড কোয়ালিটি রিভিউয়ের ভিত্তিতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গভর্নর বলেন, “আমরা আশাবাদী, আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। একইসাথে, উৎপাদন খাতে অর্থায়নের সুযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছি।”

এই নতুন মুদ্রানীতি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:০০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com