নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ | 231 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৪টি কোম্পানি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন খাতভুক্ত এসব কোম্পানির আয়, লোকসান ও আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে। কোম্পানি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, কারও কারও আয় বেড়েছে, আবার কেউ কেউ আগের বছরের তুলনায় বেশি লোকসানে রয়েছে।
কোম্পানিগুলো হলো: স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এনআরবিসি ব্যাংক, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, প্রগতী ইন্স্যুরেন্স, রবি আজিয়াটা, ইস্টার্ন ব্যাংক, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইসলামিক ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স এবং ব্র্যাক ব্যাংক।
কোম্পানিভিত্তিক বিশ্লেষণ:
স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স:
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭০ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৬৮ পয়সা। ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৫ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা। শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ পয়সায়, আগের বছর ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩১ পয়সা।
রবি আজিয়াটা:
চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৪৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২১ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৩ পয়সা (গত বছর ৪১ পয়সা)। ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪ টাকা ৪৮ পয়সা। নিট সম্পদ মূল্য ১২ টাকা ৩১ পয়সা।
এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স:
ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ২০ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৪৩ পয়সা, যা পূর্বে ছিল ৫১ পয়সা। ক্যাশ ফ্লো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ পয়সা (আগে ১৪ পয়সা)। নিট সম্পদ মূল্য ১৮ টাকা ১৪ পয়সা।
নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স:
এই প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৩৩ পয়সা (আগে ৩৫ পয়সা)। ছয় মাসে আয় হয়েছে ৯৮ পয়সা (আগে ১.০৫ টাকা)। ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৪৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩ টাকা ২০ পয়সা। নিট সম্পদ মূল্য ২৫ টাকা ৭৮ পয়সা।
এনআরবিসি ব্যাংক:
সমন্বিত ইপিএস এক লাফে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ পয়সায়, যেখানে আগের বছর ছিল ২৯ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস ৮ পয়সা (আগে ৭৩ পয়সা)। তবে ক্যাশ ফ্লো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৩৮ পয়সা। নিট সম্পদ মূল্য ১৬ টাকা ৬৭ পয়সা।
ইস্টার্ন ব্যাংক:
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৩ পয়সা, যা গত বছর ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা। ক্যাশ ফ্লো বেড়ে ১৩ টাকা ৪৯ পয়সা হয়েছে। নিট সম্পদ মূল্য ২৭ টাকা ২১ পয়সা।
ইসলামিক ফাইন্যান্স:
দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ৭৬ পয়সা। ছয় মাসে লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা (আগে ২ টাকা ৩৮ পয়সা)। ক্যাশ ফ্লো কমে হয়েছে ৮ পয়সা। নিট দায় রয়েছে ৮৬ পয়সা।
সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স:
ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩ পয়সায় (আগে ৮৯ পয়সা)। ছয় মাসে আয় ১.৬৩ টাকা (আগে ১.৭৪ টাকা)। ক্যাশ ফ্লো বেড়ে হয়েছে ১.৯৮ টাকা। নিট সম্পদ মূল্য ২২ টাকা ৪৭ পয়সা।
ইউসিবি:
সমন্বিত ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ৮ পয়সায় (আগে ৪৩ পয়সা)। ছয় মাসে আয় ১২ পয়সা (আগে ৮২ পয়সা)। ক্যাশ ফ্লো বেড়ে ১৩.৩৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে। নিট সম্পদ মূল্য ২৫.৭৪ টাকা।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স:
এই প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ২৮ পয়সা (আগে ২১ পয়সা)। ছয় মাসে হয়েছে ৩৭ পয়সা। ক্যাশ ফ্লো উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা ৫৩ পয়সা (আগে ছিল মাইনাস ৯.২৯ টাকা)। নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭৯ পয়সা।
প্রগতী ইন্স্যুরেন্স:
ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩৩ পয়সা (আগে ২.৩০ টাকা)। ক্যাশ ফ্লো হয়েছে মাইনাস ৬০ পয়সা (আগে ১.৩৭ টাকা)। নিট সম্পদ মূল্য ৫৩ টাকা ৫৪ পয়সা।
মেঘনা ইন্স্যুরেন্স:
ইপিএস বেড়ে হয়েছে ৩০ পয়সা (আগে ৫ পয়সা)। ছয় মাসে ইপিএস ৬৭ পয়সা (আগে ৭২ পয়সা)। ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১ টাকা ৪ পয়সা। নিট সম্পদ মূল্য ১৪ টাকা ১৩ পয়সা।
ব্র্যাক ব্যাংক:
সমন্বিত ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সায়, আগের বছর ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। ছয় মাসে আয় ৩ টাকা ৫৬ পয়সা (আগে ২.৬২ টাকা)। ক্যাশ ফ্লো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ২৪ পয়সা। নিট সম্পদ মূল্য ৪২ টাকা ২২ পয়সা।
ফার্স্ট ফাইন্যান্স:
লোপ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ২ টাকা ৩৮ পয়সা (আগে ৯৯ পয়সা)। ছয় মাসে লোকসান ৩ টাকা ৬৫ পয়সা (আগে ২.৯২ টাকা)। ক্যাশ ফ্লো ছিল মাইনাস ৫১ পয়সা। নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৫১ পয়সা।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির আয় কমেছে। অন্যদিকে কিছু ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে কয়েকটি কোম্পানির উল্লেখযোগ্য ক্যাশ ফ্লো বৃদ্ধিও নজর কাড়ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই রিপোর্ট ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Posted ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.