শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতিতে কাঁপছে ফারইস্ট, দাবির টাকায় জোগান দিতে সম্পদ বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫ | 159 বার পঠিত | প্রিন্ট

দুর্নীতিতে কাঁপছে ফারইস্ট, দাবির টাকায় জোগান দিতে সম্পদ বিক্রি
Responsive Ad Banner

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এক সময়ের শীর্ষস্থানীয় একটি বীমা ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে কোম্পানিটি গভীর আর্থিক সংকটে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলিসিধারীদের বৈধ দাবি ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীমার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটি তাদের গুলশান, কাকরাইল ও ফেনীর তিনটি স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ইতিমধ্যে জমি বিক্রির এই উদ্যোগ অনুমোদন করেছে। আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম পূর্বে একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রাহক দাবি মেটাতে প্রয়োজনে বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের সম্পদ বিক্রি করতে হবে।

Responsive Ad Banner

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফের অমীমাংসিত বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেছে মাত্র ৫৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা মোট দাবির মাত্র ২ শতাংশ। অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ বকেয়া দাবি এখনও ঝুলে আছে।

সম্প্রতি কোম্পানিটি জমি বিক্রির একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, গুলশান-২-এ ৩৩ ডেসিমেল জমির ওপর একতলা ভবন, কাকরাইলে ৩২ ডেসিমেল জমির ওপর চারতলা ভবন এবং ফেনীতে ১৫ ডেসিমেল জমির ওপর একটি দ্বিতল ভবন বিক্রি করা হবে। আগ্রহী ক্রেতাদের ৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও জমি বিক্রির এই বিজ্ঞপ্তি স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশ করা হয়নি, যা তালিকাভুক্তি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বর্তমান এই অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে রয়েছে গুরুতর দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ইতিহাস। ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিশেষ অডিট পরিচালনার জন্য ‘সিরাজ খান বাসাক অ্যান্ড কোম্পানি’ নামক একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়।

ওই অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, কোম্পানির তৎকালীন শীর্ষ নির্বাহী ও পরিচালকদের নেতৃত্বে প্রায় ২ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৩২ কোটি টাকার হিসাবজটিলতারও প্রমাণ মেলে। মূলত অস্বাভাবিক মূল্যে জমি ক্রয় ও মুদারাবা ডিপোজিট রসিদ বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসইসি কোম্পানিটির তৎকালীন বোর্ড ভেঙে দেয় এবং সিইও হেমায়েত উল্লাহকে অপসারণ করে। এরপর নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বেক্সিমকো সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি নিয়োগ পান। তবে সরকারের আমল পরিবর্তনের পর ওই বোর্ড সদস্যরাও পদত্যাগ করেন এবং পুরনো বিতাড়িত স্পন্সররাই আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে নিপতিত হয়েছে। সেই সংকট থেকে মুক্তি পেতেই কোম্পানিটি এখন সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের বকেয়া দাবির অর্থ পরিশোধের পথ নিচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com