নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ | 156 বার পঠিত | প্রিন্ট
দেশের বীমা খাতে সিইও (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা) নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা প্রতিবেদন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও অননুমোদিত ব্যক্তিদের সিইও পদে বসানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক প্রণীত এই গোপন প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাঁচটি বীমা কোম্পানির চলতি দায়িত্বে থাকা সিইও এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আইডিআরএ-কে।
প্রতিবেদনে বীমা আইন, ২০১০ এর ৮০(৪) ও ৮০(৫) ধারার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানির সিইও পদ তিন মাসের বেশি শূন্য রাখা যাবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো গেলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রয়েছে।
তবে বাস্তবে এসব বিধান মানা হচ্ছে না। গার্ডিয়ান লাইফ, সোনালী লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং রূপালী ইন্স্যুরেন্সে চলতি দায়িত্বে থাকা সিইওদের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, যা পুরোপুরি নিয়মবহির্ভূত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গার্ডিয়ান লাইফের শেখ রাকিবুল করিম ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চার বছর পাঁচ মাস ধরে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। একইভাবে, সোনালী লাইফের মো. রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের এস কে আব্দুর রশিদ ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের মোশাররফ হোসেন ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এবং রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি থেকে অনুমোদন ছাড়াই চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গার্ডিয়ান লাইফকে চার বছরের বেশি সময় অনুমোদিত সিইও নিয়োগ না করায় চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৬০ দিনের মধ্যে সিইও নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোম্পানিটি নির্দেশনা মানেনি এবং আইডিআরএ তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এমন একই ধরনের অনিয়ম রূপালী ইন্স্যুরেন্সেও দেখা গেছে, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনুমোদিত সিইও না থাকলেও কোম্পানিটি আইডিআরএর নির্দেশনা অমান্য করেছে।
আইডিআরএর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, শুধু পাঁচটি নয়, বর্তমানে ১৯টি বীমা কোম্পানিতে অনুমোদিত সিইও নেই। সিইও নিয়োগের নীতিমালা অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় বীমা খাতে যোগ্য প্রার্থী তৈরি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, আইডিআরএ সঠিক তদারকি না করায় বীমা কোম্পানিগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং তা গোটা বীমা খাতের সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Posted ১১:৪৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.