নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ | 340 বার পঠিত | প্রিন্ট
প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিগুলো হলো—ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, বে-লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইউনিয়ন ক্যাপিটাল।
প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একমাত্র ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স সামান্য হলেও লাভ করেছে। তবে বাকি তিন প্রতিষ্ঠান আবারও বড় অঙ্কের লোকসানে রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।
ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স : প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) হয়েছে ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ পয়সা। যদিও মুনাফা কমেছে, তবে এখনো কোম্পানিটি লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।
৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১৯ পয়সা, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
ফার্স্ট ফাইন্যান্স : এই কোম্পানিটি এখনও ক্রমাগত লোকসান গুনছে। চলতি প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ২৭ পয়সা, যদিও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে (২০২৪ সালের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৯৪ পয়সা)।
এছাড়া আলোচ্য সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ (Cash Flow Per Share) হয়েছে মাইনাস ৯ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS) নেমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৩৯ টাকা ১৩ পয়সায়।
বে-লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট : বে-লিজিং আরও গভীর সংকটে আছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪৪ পয়সা।
নগদ প্রবাহের চিত্র আরও উদ্বেগজনক—প্রতিটি শেয়ারে মাইনাস ৯৫ পয়সা। সর্বশেষে এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২৬ টাকা ৯৭ পয়সায়, যা কোম্পানিটির তীব্র মূলধন সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
ইউনিয়ন ক্যাপিটাল : ইউনিয়ন ক্যাপিটাল তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিতে রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা।
তবে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ইতিবাচক—৭০ পয়সা। যদিও নিট সম্পদ মূল্য ভয়াবহ নেতিবাচক, যা দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৬৩ টাকা ৯ পয়সা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক প্রান্তিক ধরে এসব কোম্পানির আর্থিক কাঠামো দুর্বল থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, ক্রমাগত লোকসান এবং নেতিবাচক নিট সম্পদ মূল্য দেখাচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধন ঘাটতির পাশাপাশি ভবিষ্যতেও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো রিটার্ন দিতে পারবে না—এমন ঝুঁকি প্রবল।
এ প্রসঙ্গে বাজার বিশ্লেষক মিজানুর রহমান বলেন, “এসব কোম্পানির গভর্ন্যান্স, ব্যবসায়িক কৌশল ও তদারকির অভাবে বারবার লোকসান হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ না নিলে এগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।”
চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিই ধারাবাহিকভাবে লোকসানে থাকায় পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে, যা বাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কাটাতে হলে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগে এসব কোম্পানির ওপর তদারকি জোরদার করতে হবে।
Posted ১১:৫৫ এএম | সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.