নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ | 296 বার পঠিত | প্রিন্ট
নেতিবাচক ইক্যুইটির পাহাড়, বিএসইসির নজরদারিতে ব্রোকারেজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মার্জিন ঋণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ইস্যুতে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় কড়া নজরদারির পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মার্জিন ঋণ, নেতিবাচক ইক্যুইটি (Negative Equity) এবং প্রভিশন সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সম্প্রতি বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (BMBA) এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে।
এর আগে, গত ২৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ জুনের মধ্যে নেতিবাচক ইক্যুইটি সংক্রান্ত প্রভিশন সংরক্ষণের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছিল। এবার আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে, যার আওতায় মার্জিন হিসাবের তথ্য, সুদের অঙ্ক, প্রভিশন, শেয়ারের অগ্রগতি, বিও হিসাবের অবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে: প্রতিষ্ঠান ও ট্রেক নম্বর, মার্জিন হিসাবের নাম ও বিও নম্বর, বিও হিসাব খোলার তারিখ, নগদ অর্থ ও শেয়ারের ভিত্তিতে দেয়া ঋণ, সুদের পরিমাণ ও পরিশোধের সময়সীমা, নেগেটিভ ইক্যুইটি ও প্রভিশনের বিস্তারিত চিত্র, সচল ও ঋণগ্রস্ত বিও হিসাবের সংখ্যা এবং নিট সম্পদ ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ।
মার্জিন ঋণে চিত্র (৩১ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত):
ডিএসই সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজসমূহ:
মোট মার্জিন ঋণ: ১১,৫৪৫ কোটি টাকা
প্রকৃত নেগেটিভ ইক্যুইটি: ৫,১৪৪.৬৩ কোটি টাকা
সুদ: ১,১৯১.৫০ কোটি টাকা
মোট নেতিবাচক ইক্যুইটি: ৬,৩৩৬.১৩ কোটি টাকা
মোট প্রভিশন: ১,৪৫৮.০৯ কোটি টাকা
🔶 সিএসই সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজসমূহ:
মোট মার্জিন ঋণ: ৩৫.৫৯ কোটি টাকা
প্রকৃত নেগেটিভ ইক্যুইটি: ৮.৬৪ কোটি টাকা
সুদ: ২১.১৪ কোটি টাকা
মোট নেতিবাচক ইক্যুইটি: ২৯.৭৮ কোটি টাকা
মোট প্রভিশন: ১,০৩.৬৯ কোটি টাকা
🔶 মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহ:
মোট মার্জিন ঋণ: ৬,৫৪৭.৭১ কোটি টাকা
প্রকৃত নেগেটিভ ইক্যুইটি: ২,৭০৮.৭৮ কোটি টাকা
সুদ: ১,৪৫০.৫৯ কোটি টাকা
মোট নেতিবাচক ইক্যুইটি: ৪,১৫৯.৩৭ কোটি টাকা
মোট প্রভিশন: ১,২৩৯.৩২ কোটি টাকা
সামগ্রিক চিত্র:
মোট নেতিবাচক ইক্যুইটি (প্রভিশন বাদে): ৭,৮২৪.১৮ কোটি টাকা
মোট প্রভিশন রাখা হয়েছে: ২,৭০১.১০ কোটি টাকা
মোট মার্জিন ঋণ (সব মিলিয়ে): ১৮,১২৮.৭০ কোটি টাকা
মোট নেতিবাচক ইক্যুইটি (সুদসহ): ১০,৫২৫.২৮ কোটি টাকা
বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর থেকেই এ সমস্যার সূত্রপাত। গত ১৫ বছরে পুঞ্জীভূত হয়ে এই নেতিবাচক ইক্যুইটি বর্তমানে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে পুঁজিবাজার ব্যবস্থায়। ফলে চলতি বছরের ২৮ মার্চ বিএসইসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সহায়তার আবেদনও জানিয়েছে।
নেতিবাচক ইক্যুইটির পরিমাণ এবং নিম্ন প্রভিশনিং নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। বিএসইসির এই তথ্য তলব উদ্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
Posted ২:২০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.