নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৬ মে ২০২৫ | 219 বার পঠিত | প্রিন্ট
দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ ও দুর্নীতিতে জর্জরিত ছয়টি বেসরকারি ব্যাংকের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর সম্পদ, দায় ও সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়ের মধ্যেই একীভূতকরণ সম্পন্নের লক্ষ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে জানান,
“এই ছয় ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখনই সরকারি মূলধনে পুনর্গঠনের মাধ্যমে তাদের ভিত্তি পুনঃস্থাপন জরুরি। আগামী জুলাই ২০২৫ এর মধ্যেই একীভূতকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথম ধাপে সরকারের প্রাথমিক মালিকানা ও মূলধন সহায়তায় ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করার পর বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তালিকাভুক্ত একীভূত হতে যাওয়া ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো:
বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, দুর্নীতিপরায়ণ ঋণ বিতরণ, পরিচালনা দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অমান্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সংকটে রয়েছে।
“বিশেষ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থে পরিচালিত এই ব্যাংকগুলো বারবার তদারকির বাইরে গিয়ে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করেছে,”— বলছেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
কীভাবে হবে পুনর্গঠন?
📌 প্রথম ধাপে:
রাষ্ট্রীয় মালিকানায় এনে ব্যাংকগুলো একীভূত করে একটি সুসংগঠিত ব্যাংকে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে।
📌 দ্বিতীয় ধাপে:
বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পেশাদার ব্যবস্থাপনা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি “আবশ্যক ও সাহসী পদক্ষেপ“, তবে কার্যকর পুনর্গঠনের জন্য সরকারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
Posted ১১:০৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.