সোমবার ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“শেয়ারবাজারে সিন্ডিকেট, বিচারহীনতা ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তুললেন দেবপ্রিয়”

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৪ মে ২০২৫ | 329 বার পঠিত | প্রিন্ট

“শেয়ারবাজারে সিন্ডিকেট, বিচারহীনতা ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তুললেন দেবপ্রিয়”
Responsive Ad Banner

২০১০-১১ সালে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কার্যালয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক এই আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

Responsive Ad Banner

প্রতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, “শাস্তির অনুপস্থিতি অন্যায় ও দুর্নীতি উৎসাহিত করে। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শেয়ারবাজারে যে অনিয়ম হয়েছিল, তার বিচার হয়নি। ২০১০ সালেও একই রকম সিন্ডিকেট করে বাজার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, কিন্তু আজও কেউ শাস্তি পায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা অনিয়ম করেছে, তাদের অনেকেই এখন জেলে থাকলেও তা পুঁজিবাজার সংক্রান্ত ঘটনায় নয়। পুঁজিবাজারে অনিয়মের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।”

পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরেন
ড. দেবপ্রিয় বলেন, “পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে সঞ্চয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। কারণ, যার যার দায়িত্ব সেই অনুযায়ী কেউ কাজ করছে না।”

নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান বাজার পরিচালনা ও তদারকি করছে, তারা নিজেরাই সুশাসন নিশ্চিত করতে পারছে না। বর্তমানে বাজারে যারা কারসাজি করছে, তারা নিয়ন্ত্রকদের চেয়েও বেশি চতুর। সুতরাং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আরও দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব প্রয়োজন।”

টোটকা নয়, প্রয়োজন বৃহৎ পরিকল্পনা
বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেয়ারবাজারে আইপিও কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, বাজারে তারল্য সংকট প্রকট এবং সূচক টানা পতনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই সমস্যা টোটকা ওষুধ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বৃহৎ উদ্যোগ নিয়েই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা
সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্যানেল আলোচক হিসেবে আরও ছিলেন—বিএসইসি কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, এবং আইসিএমএবি’র সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

Facebook Comments Box

Posted ২:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com