বৃহস্পতিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড

হরিলুট হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | 156 বার পঠিত | প্রিন্ট

হরিলুট হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের টাকা

শেয়ারবাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মার্কেটকে স্থিতিশীল রাখতে গঠন করা হয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)। এই ফান্ডের অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিতে পড়ে থাকা বিনিয়োগকারীদের অবন্টিত ডিভিডেন্ডের টাকা। আর এই ডিভিডেন্ডের টাকা দিয়ে পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে সিএমএসএফের কর্মকর্তারা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিএমএসএফের বর্তমান ডিসিসিআইয়ের যে অফিস রয়েছে সেটি ১০ হাজার স্কয়ার ফিটের অফিস। আর এই অফিস করতে ব্যয় করা হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া গাড়ি ও এক্সেসরিজ বাবদ আরও ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। গেল দুই বছরে অফিস এক্সপেন্স হিসেবে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যারা বোর্ড মিটিং করতেন তাদের সম্মানী বাবদ নেয়া হয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি। সবমিলিয়ে এক প্রকার হরিলুটের মতো অবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

অথচ এগুলো সব বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডের টাকা। সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের যে ডিভিডেন্ডের টাকা জমা হয়েছে- পরবর্তীতে কোন বিনিয়োগকারী ক্লেইম করলে সেই ডিভিডেন্ডের অর্থই (প্রিন্সিপাল এমাউন্ট) তারা পাবেন। অথচ এই অর্থ বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করে যে মুনাফা পাওয়া গেছে তা ফান্ডেই রাখা হবে। আর এই ফান্ডের টাকা নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যয় করবে ফান্ডের ব্যবহারকারীরা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, অবন্টিত মুনাফার প্রায় ১৩’শ কোটি টাকা বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করা হয়েছে। আইসিবি’তে এফডিআর, গোল্ডেন জুবিলী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগসহ ক্যাশ ও স্টক ডিভিডেন্ড মিলিয়ে সিএমএসএফের ফান্ডের পরিমাণ ১ হাজার ২৪৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে আইসিবি’তে এফডিআর করা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা, কমিউনিটি ব্যাংকে ক্যাশ রয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা এবং গোল্ডেন জুবিলী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে ৫০ কোটি টাকা।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজ করতে ১০ জনের বেশি কর্মকর্তা লাগে না। এছাড়া ১৫’শ স্কয়ার ফিটের একটি অফিসই যথেষ্ট। কিন্তু সিএমএসএফ একটি ভাড়া অফিসের পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ওপরে ব্যয় করা হয়েছে- যা দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড মানের একটি অফিসই ক্রয় করা যায়। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে তারা কোথায় কি করছে, কিভাবে নিজেরা বেনেফিটেড হচ্ছে- তার তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন তারা।

এ ব্যাপারে সিএমএসএফের অপারেশন চীফ মো: মনোয়ার হোসেন দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে জানান, অফিস গঠন করার পেছনে অপচয় হয়েছে এটা সত্য। একটি ফান্ড পরিচালনায় এতো অপব্যয় করা ঠিক হয়নি। বিএসইসির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে যারা বোর্ডে ছিলেন সবাই যেভাবে বলেছিলেন সেভাবেই ফান্ড ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, আসলে একটি নামকরণই ভুল হয়েছে। এটি হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের অবন্টিত ডিভিডেন্ডের টাকা যা দিয়ে কখনো মার্কেটকে স্ট্যাটাবিলাইজড করা যায় না। কারণ এতে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। আর অন্যের টাকা ঝুঁকিতে ফেলার অধিকার কারও নেই। তবে এটা সত্য এই ফান্ড গঠনে বিনিয়োগকারীদের উপকার হয়েছে। যারা জানতোই না তাদের কোটি কোটি টাকা ডিভিডেন্ড আকারে কোম্পানিতে পড়ে রয়েছে তারা এখন এই ফান্ড থেকে ডিভিডেন্ডের টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিও অ্যাকাউন্টের ডিভিডেন্ডের টাকা এ ফান্ড প্রদান করেছে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box

Posted ৭:১৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com