শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

ব্যাংকের কৌশলগত বিনিয়োগে নতুন গতি পাচ্ছে শেয়ারবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 204 বার পঠিত | প্রিন্ট

ব্যাংকের কৌশলগত বিনিয়োগে নতুন গতি পাচ্ছে শেয়ারবাজার

অর্থনীতির শ্লথ প্রবৃদ্ধি ও সীমিত বিনিয়োগ সুযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৫ শেষে একক ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজার এক্সপোজার মোট মূলধনের ১৮.১৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৫.২৮ শতাংশ।

একই সময়ে ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে সমন্বিত এক্সপোজারও ২৩.২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭.১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি শেয়ারবাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

কৌশলগত বিনিয়োগ ও বাজার প্রবৃদ্ধি
ব্যাংকাররা বলছেন, শেয়ারবাজার যখন নিম্নমুখী অবস্থায় ছিল, তখনই ব্যাংকগুলো কৌশলগতভাবে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর ফলে মূলধনী মুনাফা ও ডিভিডেন্ড আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মার্চ মাসে ডিএসইএক্স সূচক ৫,২১৯.১৬ পয়েন্টে থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৫,৫২৩.৭৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এটি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ আস্থার প্রতিফলন।

আইনানুগ সীমার মধ্যে বিনিয়োগ
ব্যাংকিং কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুসারে, ব্যাংকগুলো একক ভিত্তিতে মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ এবং সমন্বিতভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার এই আইনি সীমার মধ্যেই রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে, তবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকতে হবে।”

ব্যাংকের অবদান বাড়ছে
বর্তমানে ৩৬টি ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সরাসরি শেয়ারবাজার কার্যক্রমে যুক্ত। ২০২৪ সালে ডিএসইর বাজার মূলধনে ব্যাংকগুলোর অবদান ১৮.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১৫.১ শতাংশ।

তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ২০০৯ সালে ব্যাংকগুলো আইনি সীমার বাইরে গিয়ে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিল, যার ফলশ্রুতিতে ২০১০-১১ সালে বাজারে ধস নেমেছিল। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং তা আইনানুগ সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতামত
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ অর্থনীতির ধীরগতি, ঋণের সীমিত চাহিদা এবং বাজারে অতিরিক্ত তারল্য। তবে তারা এটিকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাজারে স্থিতিশীলতা আনে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়।

তাদের মতে, শেয়ারবাজার ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ব্যাংকের মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান যদি স্বল্পমেয়াদি লাভের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল অনুসরণ করে, তবে এটি কেবল বাজারের জন্যই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

Facebook Comments Box

Posted ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com