নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ | 310 বার পঠিত | প্রিন্ট
দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্পদের গুণগতমান যাচাই (অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ – AQR) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদের মধ্যে ৯টি ব্যাংকই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে রিফর্ম টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী এই AQR কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
যাচাইয়ের আওতায় আসা ১১টি ব্যাংক হলো:
১. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (IBBL)
২. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
৩. ন্যাশনাল ব্যাংক
৪. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক
৫. ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (UCB)
৬. আইএফআইসি ব্যাংক
৭. এবি ব্যাংক
৮. প্রিমিয়ার ব্যাংক
৯. এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক (NRBC)
১০. এনআরবি ব্যাংক
১১. মেঘনা ব্যাংক
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংক ছাড়া বাকি নয়টি ব্যাংকই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত।
আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম সম্পন্ন করবে AQR
এই কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক। সম্পদ যাচাইয়ের জন্য নিয়োজিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়াং (Ernst & Young – EY) ও কেপিএমজি (KPMG)।
এই দুটি ফার্ম ইতোমধ্যে আরও ৬টি ব্যাংকের সম্পদ যাচাই সম্পন্ন করেছে।
EY সম্পন্ন করেছে: এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক
KPMG সম্পন্ন করেছে: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক
নিরপেক্ষ ও কার্যকর অডিট নিশ্চিতে নিয়োগ
প্রতিটি ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একজন করে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে, যিনি যাচাই কার্যক্রমে সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে প্রতিটি অডিট প্রতিষ্ঠান থেকেও একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংক খাতের সংস্কার ত্বরান্বিত হবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সম্পদ যাচাইয়ের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্থা বিনিয়োগকারীদের সামনে স্পষ্ট হবে।
বিশ্লেষকদের মতামত
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ব্যাংক খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি নিরপেক্ষভাবে ও যথাযথ মানদণ্ডে এই যাচাই সম্পন্ন হয়, তাহলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং ভবিষ্যতের জন্য গঠনমূলক সংস্কারের পথ তৈরি হবে।
পটভূমি
উল্লেখ্য, গত এক দশকের বেশি সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংকে ঋণ কেলেঙ্কারি, মালিকানা পরিবর্তন, অবৈধ ঋণ পুনঃতফসিল, এবং প্রভাবশালী গ্রুপের দখলদারি-সহ নানা সংকট দেখা দেয়। এসব কারণে ব্যাংক খাত ও শেয়ারবাজার উভয়েই আস্থার সঙ্কটে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণেই নেয়া হয়েছে এই কঠোর অথচ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
Posted ১০:০৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.