নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 22 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারের মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দেশের শীর্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড-কে তাদের পরিচালিত ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কমিশন।
বিএসইসির দীর্ঘ তদন্তে এলআর গ্লোবালের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, বিনিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘন এবং ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিলেছে। যে ছয়টি ফান্ডের দায়িত্ব তাদের কাছ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে সেগুলো হলো— ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা হিসেবে রিয়াজ ইসলাম দায়িত্ব পালন করছিলেন। উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা সাকিব আল হাসান এবং সাংবাদিক রেজাউর রহমান সোহাগ।
কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এলআর গ্লোবাল তাদের ফান্ডগুলোর অর্থ দিয়ে কোয়েস্ট বিডিসি পিএলসি (সাবেক পদ্মা প্রিন্টার্স)-এর বিপুল পরিমাণ শেয়ার অস্বাভাবিক উচ্চ দরে কিনেছে। বাজারে যেখানে শেয়ারটির দাম ছিল প্রায় ১৩ টাকা, সেখানে প্রায় ২৮৯ টাকা দরে প্রিমিয়াম দিয়ে শেয়ার সংগ্রহ করা হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২০০১ সালের বিধিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।
তদন্তে আরও দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর পক্ষে ১৫.৮৮ টাকা দরে শেয়ার কেনা হলেও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী এলআরজি ভেঞ্চার লিমিটেড একই শেয়ার ১০ টাকায় অধিগ্রহণ করে। এতে সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেলেও ইউনিটহোল্ডাররা বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি একক কোম্পানির ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, সেটিও মানা হয়নি।
আরও একটি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে বলা হয়েছে, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের পক্ষ থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আহসানকে কোয়েস্ট বিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ তিনি তখন অন্য একটি সিকিউরিটিজ হাউসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কমিশনের মতে, এটি বিধিমালা ১৩-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ট্রাস্টি বা কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যুক্ত হওয়া সম্পদ ব্যবস্থাপকের এখতিয়ার বহির্ভূত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, ২০২২ সাল থেকে কোয়েস্ট বিডিসিতে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ থেকে কোনো ধরনের মুনাফা অর্জিত হয়নি। ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত হওয়ায় এসব শেয়ার বিক্রির সুযোগও সীমিত। ফলে ক্লোজড-এন্ড ফান্ডগুলোর মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এর আগে গত বছরের ২১ অক্টোবর জারি করা এক আদেশে অনিয়মের দায়ে রিয়াজ ইসলাম এবং সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম-কে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে রিয়াজ ইসলামসহ পাঁচ পরিচালক ও ট্রাস্টির ওপর মোট ১০৯ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএসইসি মনে করছে, এলআর গ্লোবাল জবাবদিহি ও সততার মানদণ্ড রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটিকে অপসারণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
Posted ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.