নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৬ মে ২০২৫ | 155 বার পঠিত | প্রিন্ট
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
১৮ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বিএসইসি এ তথ্য জানায়। এতে ১১ মে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রদত্ত পাঁচটি নির্দেশনার বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সময়সূচি উপস্থাপন করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বিদেশি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ;
তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবধান বাড়ানো;
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তিন মাসের মধ্যে বাজার সংস্কার শুরু;
শেয়ারবাজারে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ;
বড় কোম্পানিগুলোকে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে শেয়ারবাজারমুখী অর্থায়নে উৎসাহিত করা।
বিএসইসি জানায়, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেমন, শিল্প মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে ছয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বাজেটে শেয়ারবাজারবান্ধব করনীতি প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো যাতে শেয়ারবাজার থেকে সহজে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে।
শনিবার ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিএসইসি কমিশনার মোহসিন চৌধুরী বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া পাঁচ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কমিশন জোরালোভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে।”
তবে এসব উদ্যোগের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সেমিনারে তিনি বলেন, “উল্লেখিত পাঁচটি নির্দেশনার মধ্যে তিন বা চারটি সরাসরি সরকারের দায়িত্বে পড়ে। তবে এসব ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।” তিনি বিশেষভাবে বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহ, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধা, আইনগত জটিলতা দূরীকরণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে সরকারের সীমিত উদ্যোগের সমালোচনা করেন।
দেবপ্রিয় আরও বলেন, “কোনো সংস্কার টেকসই করতে হলে সেটি হতে হবে নির্দিষ্ট, বাস্তবায়নযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায়। সংশ্লিষ্ট সবার মালিকানাবোধ সৃষ্টি না হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।” তিনি বিদেশি প্রযুক্তিগত সহায়তাকে একমাত্র সমাধান হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বিএসইসির ২১ জন কর্মকর্তাকে চাকরির বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় বিএসইসির একাংশ ব্যতিক্রমধর্মী কর্মবিরতিতে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিও তোলে। যদিও তদন্ত কমিটি বেশ কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করেছে, তবে এখনো বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
Posted ৩:৫৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.