নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১ | 1752 বার পঠিত | প্রিন্ট
২০১০ সালের পর থেকেই দেশের শেয়ারবাজারে ক্রান্তিকাল চলছে। ধসের পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্ত কোনো পদক্ষেপেই বাজারে স্থিতিশীলতা আসেনি। বরং দিন যতই গেছে বাজার ততই তলানীতে চলে গেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পরিমাণ বেড়েই গেছে। মাঝে মাঝে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও ঘুরে ফিরেই পতনের বৃত্তে চলে গেছে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী নি:স্ব হয়ে বাজার থেকে বেড়িয়ে গেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সঙ্কট বেড়েছে। বর্তমান কমিশন গত বছর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বাজার স্থিতিশীলতায় বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড। বিএসইসি’র পক্ষ থেকে এ ফান্ডের টাকা জমা দেয়ার সময় বেধে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ফোরাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলী লিস্টেড কোম্পানীজ (বিএপিএলসি)।
জানা যায়, গত ৬ জুলাই বিএসইসি এক নির্দেশনায় সব তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্রোকারহাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের কাছে থাকা (যদি থেকে থাকে) অদাবিকৃত লভ্যাংশ, অবণ্টিত লভ্যাংশ, আইপিওর রিফান্ড ইত্যাদি পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে জমা দেওয়ার কথা বলে। বিএসইসির নির্দেশনায় টাকা জমা দেওয়ার জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
কিন্তু পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা ফান্ডে টাকা স্থানান্তরের জন্য সময় চেয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ফোরাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলী লিস্টেড কোম্পানীজ (বিএপিএলসি)। গত বুধবার (৭ জুলাই) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সময় চেয়েছে সংগঠনটি। বিএপিএলসি এই টাকা জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় চেয়েছে। তবে কতদিন সময় প্রয়োজন তা তারা উল্লেখ করেনি।
সংগঠনটির মতো, দুটি কারণে তাদেরকে বাড়তি সময় দেওয়া দরকার। প্রথমতঃ এই ধরনের টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার/সিকিউরিটিহোল্ডার অথবা তাদের নমিনিকে ৩০ দিনের আগাম নোটিশ দিতে হবে। দ্বিতীয়তঃ আইপিওর সাবস্ক্রিপশনের টাকা রিটার্নের ক্ষেত্রে বহু বছরের পুরনো নথিপত্র ঘাঁটতে হবে। কিন্তু করোনাভাইরাস অতিমারির কারণে প্রায় সব অফিস সীমিত পরিসরে চলছে বলে এই কাজগুলো ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করা বেশ দুরুহ। তাই তাদেরকে বাড়তি সময় দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ, চলতি বছরের শুরুর দিকে বিএসইসি আলোচিত ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২১ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি নোটিশিকেশন জারি করে বিএসইসি। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৭৭২তম নিয়মিত কমিশন সভায় ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (ঈধঢ়রঃধষ গধৎশবঃ ঝঃধনরষরুধঃরড়হ ঋঁহফ) নামে ওই ফান্ড গঠন ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিধিমালা অনুমোদন করা হয়। গত ২৭ জুন এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়।
তহবিল থেকে বাজারের মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার কেনাবেচা করা তথা বিনিয়োগের জন্য স্বল্প মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। শেয়ার কেনাবেচা করতে গিয়ে যাতে তহবিলের কোনো লোকসান না হয়, তার জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করা হবে, থাকবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অডিট কমিটি।
বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অবণ্টিত ও অদাবিকৃত লভ্যাংশ ও রিফান্ডের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএপিএলসি যে কারণ দেখিয়ে সময় প্রার্থণা করেছে তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণে বিএসইসি’র নির্দেশনা জারির পর এতদিনেও কেনো তারা কি করেছে। কেন বিনিয়োগকারীদের নমিনির সাথে যোগাযোগ করেনি। এখন ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সবকিছুই খুব অল্প সময়ে করা সম্ভব। তারা কেন এতদিনেও ফান্ডের টাকার বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেনি? যেখানে করোনার মধ্যও সবকিছু চলছে লোকজনও অফিস করছে, সেখানে এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তারা কেন ফেলে রেখেছে? বিএসইসি কি তাহলে নির্দেশনা জারির আগে তাদের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে? এ বিষয়ে বিএসইসি‘র ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
শেয়ারবাজার২৪
Posted ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১
sharebazar24 |
.
.