নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫ | 185 বার পঠিত | প্রিন্ট
খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত জানুয়ারি-মার্চ ২০২৫ মেয়াদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের মূলধন দুর্বল হচ্ছে, তারল্য সংকট তীব্র হচ্ছে এবং লাভজনকতা নেতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে।
খেলাপি ঋণে রেকর্ড বৃদ্ধি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪.২ লাখ কোটি টাকা, যা মাত্র তিন মাস আগেও ছিল ৩.৪৫ লাখ কোটি টাকা। এর ফলে খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০.২০% থেকে বেড়ে ২৪.১৩%-এ পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধি ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মূলধনের ভিত্তি ভেঙে পড়ার পথে
একটি ব্যাংকের সক্ষমতার প্রধান সূচক ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) মার্চ মাসে নেমে এসেছে মাত্র ৩.০৮%-এ, যেখানে ডিসেম্বর ২০২৪-এ এটি ছিল ৬.৮৬%। আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-৩ মানদণ্ড অনুযায়ী এই অনুপাতের নিম্নগতি ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা স্পষ্ট করছে।
ব্যাংকের মুনাফা ও তারল্য সংকটে ধস
প্রতিবেদন বলছে, প্রভিশন এবং কর পরবর্তী নিট মুনাফা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। রিটার্ন অন অ্যাসেটস (ROA) হয়েছে মাইনাস ০.১৮% এবং রিটার্ন অন ইক্যুইটি (ROE) হয়েছে মাইনাস ৩.৯৯%, যেখানে এক বছর আগে যথাক্রমে ছিল ০.২৩% এবং ৪.৩২%। খেলাপি ঋণের জন্য প্রভিশন ৭৬.৬১% বৃদ্ধি এবং পরিচালন আয়ের হ্রাসকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৮.৫১%, যা আগের বছরের ৯.৯৮% থেকে অনেক কম। ঋণ বিতরণও স্থবির হয়ে ৮.২২%-এ দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং উচ্চ ঋণ গ্রহণ ব্যয়ের কারণে ঋণ বিতরণ চাহিদা কমে গেছে।
গ্রাহক আস্থার সংকট ও সংস্কারের উদ্যোগ
প্রতিবেদন অনুসারে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা সত্ত্বেও, কিছু ব্যাংক এখনো গ্রাহকের অর্থ প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং কঠোর করা হবে এবং ঋণ আদায়ে জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Posted ১০:৩৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.