রবিবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাংলাদেশে নয়, ফিরছে দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫ | 263 বার পঠিত | প্রিন্ট

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাংলাদেশে নয়, ফিরছে দেশে

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানি ২০২৪ অর্থবছরে নিট মুনাফার তুলনায় অধিক পরিমাণে ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। কারণ, এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে কোম্পানিগুলো দেশে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক পরিকল্পনার চেয়ে মুনাফা তুলে বিদেশে নিয়ে যেতে বেশি আগ্রহী।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, তালিকাভুক্ত ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ৯টিই ২০২৪ অর্থবছরে তাদের নিট মুনাফার তুলনায় বেশি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। সম্মিলিতভাবে এই কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা ছিল ৮ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। কিন্তু ক্যাশ ডিভিডেন্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা— অর্থাৎ ১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলার সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে যেসব ডিভিডেন্ড বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি, বর্তমানে সেই অর্থ একবারে পাঠানোর জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। এতে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে লাভ উত্তোলনই তাদের অগ্রাধিকার হয়ে উঠছে।

কারা কত ডিভিডেন্ড দিল?
গ্রামীণফোন ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার নিট মুনাফার বিপরীতে ৪ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ম্যারিকো বাংলাদেশ মুনাফা অর্জন করেছে ৫৬৬ কোটি টাকা, কিন্তু ডিভিডেন্ড দিয়েছে ৬১৯ কোটি টাকা। লাফার্জহোলসিমের মুনাফা ছিল ৮৫ কোটি টাকা, কিন্তু ডিভিডেন্ড দিয়েছে ১১৩ কোটি টাকা।

এছাড়া, রবি আজিয়াটা, রেকিট বেনকিজার, সিঙ্গার বাংলাদেশ, আরএকে সিরামিকস, লিন্ডে বাংলাদেশ ও ইউনিলিভার বাংলাদেশসহ অন্যান্য কোম্পানিও একই ধরণের অতিরিক্ত ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, বিএটিবিসি, বার্জার পেইন্টস, বাটা শু এবং হাইডেলবার্গ সিমেন্ট মুনাফার তুলনায় কিছুটা কম ডিভিডেন্ড দিয়েছে। তবে সামগ্রিক প্রবণতা বলছে, অধিকাংশ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এখন বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।

বিনিয়োগ বিমুখতার কারণ কী?
আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, “বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক নীতিমালার কারণেই তারা পুনঃবিনিয়োগ থেকে বিরত থাকতে পারে। তবে এটি আমাদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত যে, আমরা তাদের দেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে পারছি না।”

বিএসইসির অবস্থান
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জানিয়েছে, কোনো কোম্পানি কিভাবে মুনাফা ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণ করাই তাদের এখতিয়ার। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবেও বাজারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে বৃহৎ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা জরুরি।

বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মুনাফার অতিরিক্ত ডিভিডেন্ড দেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসা কেবল “লাভ তুলে নেয়ার ক্ষেত্র” হিসেবে পরিণত হবে। এতে ভবিষ্যতে দেশীয় শিল্প খাত, কর্মসংস্থান এবং মূলধন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ১:৫০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com