শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা, বড় ধসের আশঙ্কা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫ | 170 বার পঠিত | প্রিন্ট

প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা, বড় ধসের আশঙ্কা প্রকাশ
Responsive Ad Banner

প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালার খসড়াকে ঘিরে পুঁজিবাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা দাবি করছেন, খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমে আসার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এ নীতিমালা প্রত্যাহার করে বিদ্যমান নিয়মকে আধুনিকায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (২৫ আগস্ট) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) নেতারা বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে খসড়া মার্জিন নীতিমালার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।

Responsive Ad Banner

পি/ই অনুপাতের সীমা নিয়ে আপত্তি
বিসিএমআইএ নেতাদের মতে, ইতোমধ্যেই পি/ই অনুপাত ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করা হয়েছে, যা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু লোকসানি ও অনিয়মিত কোম্পানির কারণে সেক্টরের গড় পি/ই অনুপাত বিকৃত হচ্ছে, ফলে ভালো মৌলভিত্তির লার্জ ক্যাপ শেয়ারের ক্ষেত্রে এই সীমা অন্যায্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের মতো কম পি/ই বিশিষ্ট সেক্টরে নীতিমালা অতিরিক্ত কঠোর হয়ে যায়, আবার প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানির জন্য এই নিয়ম বাস্তবতাবিরোধী সিদ্ধান্ত তৈরি করছে।

ক্যাটাগরি পরিবর্তন ও জোরপূর্বক বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো মার্জিন অ্যাকাউন্টের ‘এ’ ও ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ার যদি ‘বি’ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যায়, তবে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করতে হবে অথবা অ্যাকাউন্টকে ক্যাশ অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মতে, এই স্বল্প সময়সীমায় বাধ্যতামূলক বিক্রির নিয়ম বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি করতে পারে এবং একযোগে বিক্রির ফলে ট্রেডিং স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তাঁরা অন্তত তিন মাসের সমন্বয়কাল রাখার সুপারিশ করেছেন।

ঋণ-মালিকানা সত্ত্ব (Loan-to-Equity) অনুপাতের সীমা
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূলধন যদি পরিশোধিত মূলধনের ৭ গুণ বা তার বেশি হয়, তবে সর্বোচ্চ ঋণ-মালিকানা সত্ত্ব অনুপাত ১০০.৫ এ সীমিত থাকবে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এই সীমা বাজারকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে দেবে, যা তারল্য সংকট তৈরি করবে।

অর্থায়নকারীর ঋণসীমা নিয়ে সমালোচনা
খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে যে কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারী তার নিট সম্পদের তিন গুণের বেশি ঋণ দিতে পারবে না। বিসিএমআইএ নেতারা বলছেন, অধিকাংশ মধ্যস্থতাকারী ইতোমধ্যেই লোকসান ও নেগেটিভ ইকুইটির কারণে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ফলে এই সীমা কার্যকর হলে পুরো বাজারে মার্জিন ঋণের সরবরাহ আরও সংকুচিত হবে।

অন্যান্য সুপারিশ
কোনো কোম্পানিকে বিনিয়োগকারীদের সম্মতি ছাড়া ডিলিস্টেড না করার দাবি।

মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকদের অনিয়মের দায় নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীর ক্ষতির জন্য দায়ী করা।

লিক্যুইডেশনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে বিনিয়োগ ফেরত নিশ্চিত করা।

আর্থিক প্রতিবেদনে সন্দেহজনক তথ্য পেলে ফরেনসিক অডিট চালু করা।

এসএমই মার্কেটে বৈষম্য দূর করা এবং যোগ্য হলে ঋণ প্রদানের সুযোগ রাখা।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে বড় ধস নেমে আসবে। তাই বিদ্যমান নীতিকে আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

 

Facebook Comments Box

Posted ১০:১৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com