নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫ | 138 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক এখন নতুন যাত্রার পথে। প্রচলিত ব্যাংকিং থেকে সরে এসে তারা পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য এনসিসি ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিস্তারিত পরিকল্পনা (প্রোপোজাল) জমা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বর্তমানে এনসিসি ব্যাংক একটি ফিজিবিলিটি রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ করছে, যা দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে কারা রূপান্তরিত হয়েছিল
বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২১ সালে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো প্রচলিত ব্যাংক আর পুরোপুরি এই ধারায় আসেনি। তাই এনসিসি ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন আগ্রহী ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এনসিসি ব্যাংক ছাড়াও এনআরবি ব্যাংক এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরিকল্পনা জমা দেয়নি। অন্যদিকে, পূবালী ব্যাংক এবং ব্যাংক অব সিলন শুধুমাত্র ইসলামী শাখা বা উপশাখা খোলার জন্য আবেদন করেছে।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের চিত্র
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া প্রচলিত ব্যাংকগুলো পরিচালনা করছে ৪৬টি ইসলামী শাখা এবং ৯১৯টি ইসলামী উইন্ডো। এর মধ্যে:
ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অগ্রগতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭ কোটি টাকা, আর বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ ৬৮ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ইসলামী ব্যাংকের মোট ১,৭৩৯টি শাখা রয়েছে।
সংকট ও সম্ভাবনা
অতীতে বেশ কিছু ইসলামী ব্যাংক আর্থিক সংকট ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়ায় মানুষের আস্থা কিছুটা নড়বড়ে হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করায় আবারও আস্থা ফিরছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে প্রচলিত ব্যাংকগুলো পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এনসিসি ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি
এনসিসি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন,“বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন ও পরিকল্পনা জমা দিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক যে শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ফিজিবিলিটি রিপোর্ট তৈরি করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।”
Posted ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.