নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৮ মে ২০২৫ | 215 বার পঠিত | প্রিন্ট
একদিনের আশাব্যঞ্জক উত্থানের পর দেশের শেয়ারবাজারে আবারও দেখা দিয়েছে হতাশা। বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্তিকর বার্তা ও আস্থার সংকটই রোববার (১৮ মে) বড় ধরনের সূচক পতনের প্রধান কারণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৯.৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৯১ পয়েন্টে। দিনের শুরুতে বাজার ছিল ইতিবাচক, প্রথম ঘণ্টায় সূচক বাড়ে প্রায় ২০ পয়েন্ট। কিন্তু লেনদেনের মধ্যভাগ থেকে সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং দিন শেষে নেতিবাচক ধারায় ফিরে আসে।
ভরসা জাগিয়েও ভেঙে পড়ল বাজার
বিনিয়োগকারীদের মতে, আগের দিনের বাজার চাঙ্গা হওয়ার পেছনে সরকার প্রধানের সহকারী উপদেষ্টা ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ডিএসই পরিদর্শন একটি বড় ভূমিকা রাখে। এ থেকে বাজারে বার্তা যায় যে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে শেয়ারবাজার মনিটর করা হচ্ছে এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী সাহস পেয়ে নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেন।
তবে বিকেলে সেই আশাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই বাজারে আসে নেতিবাচক ধাক্কা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকে তিনি অপেশাদার আচরণ করেন এবং কিছু অংশীজনকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজারে ফের তৈরি হয় অনাস্থা।
বিনিয়োগকারীদের মন্তব্য
খুচরা বিনিয়োগকারী ফরহাদ হোসেন বলেন,
“কাল কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও আজকের পরিস্থিতি আবার হতাশাজনক। মনে হচ্ছে, এই বাজারে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।”
একজন ব্রোকারেজ হাউজের সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন,
“নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান যদি দ্বৈত হয়—একদিকে সহানুভূতিশীল বার্তা, আরেকদিকে অপেশাদার আচরণ—তাহলে বাজারে আস্থা ফেরানো অসম্ভব।”
করণীয় নিয়ে বিশ্লেষকদের পরামর্শ
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অর্থনৈতিক চেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক ও বার্তানির্ভর হয়ে উঠেছে। আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয়ের কথা বলেছেন—
১. প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা, যাতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে কাজ করে।
২. অংশীজনদের সম্মানজনকভাবে সম্পৃক্ত রাখা, যাতে বাজার নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
৩. বিনিয়োগকারীদের জন্য নিয়মিত, সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য বার্তা প্রদান করা, যা তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করবে।
ডিএসইতে সূচকের পতন, বাড়ল লেনদেন
আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩৯৯টি কোম্পানি। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ২৪১টির, এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টি।
ডিএসইএক্স কমেছে ২৯.৩৮ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ৪,৭৯১ পয়েন্টে।
ডিএসইএস সূচক কমেছে ৬.৬২ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১,০৪৬ পয়েন্টে।
ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ৮.০১ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১,৭৮০ পয়েন্টে।
দিনশেষে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা বেশি।
সিএসইতেও পতনের ধারাবাহিকতা
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ১ লাখ টাকার, আগের দিনের ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার তুলনায় কিছুটা বেশি।
সিএএসপিআই সূচক ৭৮.০৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩,৪০৩ পয়েন্টে।
মোট ২৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১১৮টির, এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টি।
Posted ৩:৫০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.