নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | 23 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় ১৮টি তালিকাভুক্ত হেভিওয়েট কোম্পানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছে কমিশন।
বিএসইসি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়মভঙ্গ আর কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়েও জমা পড়েনি আর্থিক প্রতিবেদন
বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে প্রকৌশল, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনিরীক্ষিত বা বার্ষিক আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
এই বিলম্বকে কমিশন ‘ডিফল্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, এটি সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
যেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ
অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর তালিকায় রয়েছে— জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, রবি আজিয়াটা পিএলসি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, এবি ব্যাংক পিএলসি, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
তথ্য প্রকাশে দেরিতে বাড়ে বিনিয়োগ ঝুঁকি
বিএসইসি জানিয়েছে, সময়মতো আর্থিক তথ্য প্রকাশ না হলে বাজারে তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকি তৈরি হয়। এমন অবহেলার কারণে কোনো বিনিয়োগকারী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই বহন করতে হবে।
কমিশন আরও জানায়, ভবিষ্যতে আর্থিক তথ্য প্রকাশে যেকোনো ধরনের শৈথিল্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
বাজারে শক্ত বার্তা, আস্থার পুনর্গঠনের প্রত্যাশা
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একসঙ্গে এতগুলো নামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ শেয়ারবাজারে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো সময়মতো তথ্য না দিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের চিড় ধরে।
তাদের মতে, এই উদ্যোগ আগামী দিনে কোম্পানিগুলোকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাধ্য করবে। বাজারে স্বচ্ছতা বাড়লে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থের বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা আরও সুসংহত হবে।
Posted ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.