নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২১ মে ২০২৫ | 265 বার পঠিত | প্রিন্ট
ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ করার বিধান যুক্ত করে সংশোধিত সরকারি চাকরি আইন প্রস্তুত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের সংশোধিত খসড়া এখন উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০১৮’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছুটি বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই কোনো কর্মচারী যদি অনুপস্থিত থাকেন, কর্মে বিরত থাকেন বা অন্যকে তা করতে প্ররোচিত করেন, তবে তাকে ‘অসদাচরণে’ দায়ী করে চাকরি থেকে অপসারণ, বরখাস্ত বা নিম্ন পদে অবনমিত করার মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া যাবে।
গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তার পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এই কঠোর আইনের উদ্যোগ নেয়। ওই সময় সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দাবিদাওয়া আদায়ে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় একটি অংশও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকায় উদ্বেগ বাড়ে।
এর আগে ১৯৭৯ সালে ‘সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ’ নামে একটি কঠোর আইন জারি হয়েছিল। সংশোধিত আইনে সেই আইনের আদলে কঠোরতা পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নতুন আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
তবে নতুন আইনটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (২১ মে) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, “এই সংশোধিত আইন কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং এটি একটি ‘কালো আইন’। এতে কর্তৃপক্ষের হাতে অতি ক্ষমতা চলে যাবে, যার অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।”
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মচারীদের দাসে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এটি পেশাগত বিকাশের পরিবেশ নষ্ট করবে এবং একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
অন্যদিকে আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “৪৬ বছর আগের শাসনতান্ত্রিক শূন্যতার সময়ে জারিকৃত আইনের আদলে এখন আইন তৈরি হলে, তা সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”
বিবৃতিতে তারা আইনটি বাতিল এবং কর্মচারীবান্ধব নীতিমালার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
Posted ১০:০৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২১ মে ২০২৫
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.