মঙ্গলবার ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

অডিটে লাল সংকেত: অ্যাপেক্স উইভিংয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 20 বার পঠিত | প্রিন্ট

অডিটে লাল সংকেত: অ্যাপেক্স উইভিংয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেডের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। কোম্পানিটির ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত দুই অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্পোরেট রিপোর্টিং বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিফ রেগুলেটরি অফিসারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে অ্যাপেক্স উইভিংয়ের আর্থিক হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নিরীক্ষকদের দেওয়া মতামতকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএসইসির চিঠি অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকরা তিনটি ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ এবং একটি ‘এমফাসিস অব ম্যাটার’ প্রদান করেছেন। অপরদিকে, এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ছিল ‘ডিসক্লেইমার অব ওপিনিয়ন’, যা নথিপত্রের অভাবে নিরীক্ষকের চূড়ান্ত মতামত দিতে না পারার ইঙ্গিত বহন করে। এসব নেতিবাচক মতামতের পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং এর মাধ্যমে কোনো সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না—তা যাচাই করতেই এই বিশেষ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় ডিএসইর রেগুলেটরি বিভাগকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক গরমিলের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কারা দায়ী—তা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিএসইসি। প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), কোম্পানি সচিব কিংবা নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের ব্যাখ্যাসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ অডিট রিপোর্ট বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে, যা শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ও আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

কোম্পানিটির অতীত পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে আইপিও’র মাধ্যমে প্রায় ২৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় অ্যাপেক্স উইভিং। তবে পরবর্তীতে ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থতা ও উৎপাদন বন্ধের কারণে ২০০৯ সালে কোম্পানিটিকে ওটিসি মার্কেটে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গত বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ রাখার সময়সীমা দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমন বাস্তবতায় আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ থাকলে সেই হিসাবের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তারা আশা করছেন, বিএসইসির এই কঠোর উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু অ্যাপেক্স উইভিং নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

Facebook Comments Box

Posted ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com